বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা পেরিয়ে আর্থিক পরাশক্তি হয়ে উঠবে সৌদি আরব?

নানামুখী বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পথে রয়েছে সৌদি আরবের অর্থনীতি।

নানামুখী বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পথে রয়েছে সৌদি আরবের অর্থনীতি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রভাবে তেলবাজারে অনিশ্চয়তা, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর সূচক ৬ হাজারের নিচে নেমে যাওয়া সত্ত্বেও সৌদি আরব তাদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে পেরেছে।

২০২৪ সালে যখন অনেক দেশ অর্থনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যে ছিল, তখন সৌদি আরব হেঁটেছে ভিন্নপথে। গত বছর দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। যেখানে জ্বালানি তেল-বহির্ভূত খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। জ্বালানি তেলভিত্তিক অর্থনীতির কিছু অংশে মন্দা দেখা দিলেও দেশটির সামগ্রিক আর্থিক অবস্থান বেশ শক্তিশালী। তবে প্রশ্ন থেকেই যায় সৌদি আরব কি বৈশ্বিক অর্থনীতির এ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে সত্যিকার অর্থে একটি আর্থিক পরাশক্তি হয়ে উঠতে পারবে?

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এফটিআই কনসালটিংয়ের কর্মকর্তা বিকাস পাপরিওয়াল মনে করেন, সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই লিখতে পারবে। তিনি বলেন, ‘‌জ্বালানি তেলবাজারের ওঠানামা মোকাবেলায় সৌদি আরবকে নবায়নযোগ্য ও টেকসই শক্তি খাতে গবেষণা, উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনে বিনিয়োগ জোরদার করতে হবে। তার মতে, শক্তিশালী আইনি ও কর সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা অপরিহার্য।’

আর্থার ডি লিটলের রেজওয়ান শাফিক বলেন, ‘‌ˆসৗদি আরবের নতুন কোম্পানি আইন, ক্যাপিটাল মার্কেট কর্তৃপক্ষের কৌশল এবং বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ের নীতিমালাগুলো দেশটির আর্থিক খাতকে আরো স্থিতিশীল ও ভবিষ্যৎমুখী করে তুলছে। ২০১৯ থেকে এমএসসিআই ইমার্জিং মার্কেটস সূচকে সৌদি আরবের অংশীদারত্ব ২ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ শতাংশ হয়েছে। গত পাঁচ বছরে বিদেশী বিনিয়োগ ২৫ গুণ বেড়ে ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

সৌদি আরবের শেয়ারবাজার তাদাউল সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি শেয়ারবাজারের একটি হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ তাদাউলের বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারে।

ডেলয়েট মিডলইস্টের ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস পার্টনার সেরকান টেকার বলেন, ‘‌তাদাউল এরই মধ্যে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। সৌদি আরব যদি ওয়াল স্ট্রিট বা লন্ডনের মতো বৈশ্বিক আর্থিক কেন্দ্র হতে চায়, তাহলে তাদের ক্যাপিটাল মার্কেটের তারল্য আরো বাড়াতে হবে।’

এছাড়া সৌদি আরব ফিনটেক, এআই ও ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রেও দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। এসব খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। সৌদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে ফিনটেক খাত ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

তবে সৌদি আরবের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও তেলের দামের অস্থিরতা।

আর্থার ডি লিটলের শাফিক বলেন, ‘‌সৌদি আরবকে এখন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অঞ্চলের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংযোগ আরো জোরদার করতে হবে, বিশেষ করে চীন, সিঙ্গাপুর ও আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে।’

সৌদি আরব কেবল বাজার তৈরি করছে না, বরং বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের জন্য দরজা খুলে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অংশীদারত্ব, প্রযুক্তি বিনিয়োগ এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখলে সৌদি আরব শুধু আঞ্চলিক নয় বৈশ্বিক আর্থিক পরাশক্তিতে পরিণত হবে, এমন সম্ভাবনা প্রবল। খবর আরব নিউজ।

আরও